কী কী অভিযোগ দেবো? কাকে কাকে আর দেবো?
১) বিদেশে বসা দুই উস্কানিদাতাদের নিয়ে অভিযোগ দেবো? নাকি তাদের দ্বারা ব্রেইন ওয়াশড হওয়া এই অভাগা জাতির একাংশদের নিয়ে?
২) কার কাছে অভিযোগ দেবো? মব কালচার সৃষ্টি করা এই সরকারের কাছে? তারা যে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েও ঐ সিংহাসনে বসে আছেন, তাদের বিরুদ্ধেই বা অভিযোগ কাদের কাছে দেবো?
৩) গভীর রাতে সাংবাদিক তুলে নিয়ে যাওয়া মহাপরাক্রমশালী এই প্রশাসন যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দিতে পারলো না; সেই অভিযোগ কোথায় দিবো?
৪) প্রথম আলো ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় যারা বগল দাবাচ্ছেন, যেসব দালাল নির্মম বিনোদনে অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়ছেন; তারা কি জানে যে, এরপরের টার্গেট তারাই? আমার কর্ম হারানোর এই আশঙ্কা কাকে জানাবো?
৫) আলু মাংসের হিসেবে গড়মিল তো মন্ত্রী মশাই দেখলেন। তার হাতে যে দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত না; যে কেউ চাইলে আপনাকে আমাকে মেরে সীমান্ত দিয়ে চলে যেতে পারে – সেই অথর্ব মন্ত্রীর বিচারের অভিযোগ কই দেবো?
২৪ এর ৫ আগস্টের পর এই দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল, সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। মব কালচারকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বললে, এই কাজগুলো করেছেন এই সরকারই, সরকারের প্রভাবশালী কিছু মানুষ। এতে যুক্ত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধারাও। ‘প্রেশার গ্রুপ’, ‘ডাস্টবিন’ সহ নানান মব কর্মকাণ্ডকে তারাই পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বাংলাদেশের সকল মব এর দায়ভার তাদের, সকল অপরাধের মূল কারিগর তারা।
দুর্বল এবং ব্যর্থ এই সরকারের মহাজনেরা শুধু বিবৃতি দিতে পারেন। ফেসবুক গরম করতে পারেন। পারেন না শুধু নিজেদের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে। রাষ্ট্রের জনগণের করের টাকায় বেতনাদি সহ সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারেন তারা। পারেন না শুধু এই সুবিধার বিনিময়ে যে প্রতিশ্রুত সেবা দেওয়ার কথা ছিল, সেই সেবা দিতে। এমন নির্লজ্জ বেহায়া লোকজন পৃথিবীর কোন দেশের কোন সরকারে বিরল। শুধু অভিযোগের কারণে যোগাযোগ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী আবুল হোসেনকেও। কিন্তু এই ইউনূস সরকারের কোন একজন মধ্যম সারীর কর্মকর্তারও কিছু খোয়াতে হয় না।
এমন অবস্থায় আমরা সাধারণ নিরীহ জনগণ কই যাবো? কার কাছে প্রতিকার আর বিচার চাইবো? এসব প্রশ্নের উত্তর কই পাবো? আমরা তো দেশের দুর্বল নির্লজ্জ আর বেহায়া সরকারের অসহায় নাগরিক মাত্র!


এই সরকারের পদত্যাগ চাই…
দুটি গণমাধ্যমে হামলা সরকার চাইলে বন্ধ করতে পারতো। হামলাকারীর সংখ্যা কতো ছিল, খুব অল্প। হাদীর মৃত্যুর পরে একটা ঝড় উঠবে, সরকারও জানতো। তাহলে নিরাপত্তা দিলো না কেন?
শাহবাগ থেকে হেটে কারওয়ান বাজার আসতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। চত্বরের বাইরে যাত্রা থামানো হলো না কেন? তারা এলো- আগুন দিল, চলেও গেল। এই সময়ে প্রশাসন কি ছুটিতে ছিল?
বিগত সব সরকার গণমাধ্যম বন্ধ করেছে। কিন্তু আগুন দেয়নি।