সাংবাদিকতা বনাম দল দাসত্বঃ ১৫ বছরের পরিকল্পিত ধ্বংস

বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত টপিক - সাংবাদিকদের দল দাস হওয়া। কথাটা আসলে খুবই বাস্তব, সঠিক এবং সত্য। ৫ আগষ্টের আগে মিডিয়া হাউজগুলোতে লোক নিয়োগ হতো কে আওয়ামী লীগ, সেই পরিচয়ে। ৫ আগষ্টের পর লোক খুঁজে খুঁজে নিয়োগ হয়েছে কে বিএনপি এর, সেই বিবেচনায়। এখনও অনেক হাউজে দেখবেন চেয়ার খালি কারণ "ভালো বিএনপিপন্থী সাঙ্ঘাতিক" পাচ্ছে না। এ নিয়ে আগেও লিখেছিলাম।
বিশেষ করে পলিটিক্যাল এবং পিম/সংসদ বিটে ছাত্রলীগ করা রিপোর্টাররাই শুধু নিয়োগ পেতো। মজার বিষয় হচ্ছে, ৫ আগস্টে খুনি হাসিনার পতন হলেও, হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের লয়্যালটি থামেনি।
একদিন হাসিনা বিটের এক দালালের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এক সালের ছাত্রলীগের কমিটির তালিকা চাইছিলাম। ফুটফুটে সন্দুর হাসিনার সেই ছাওয়াল, তালিকাটা দেয়নি আমাকে। সে স্বীকার করছে যে তার কাছে আছে, কিন্তু তালিকা পাইলে তার এক পেয়ারের ভাইয়ের আওয়ামী চেহারা প্রকাশ পাবে বলে দেয়নি।
এজন্য গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারকদের আগে সচেতন হতে হবে। বিএনপিপন্থী, আওয়ামী পন্থী, এনসিপি পন্থী সাংবাদিক ন খুঁজে; মেধাবী, যোগ্য, সৎ আর পরিশ্রমী সাংবাদিক খোঁজেন প্লিজ।
তবে এই দলদাস অবস্থা শুধু সাংবাদিকতায় না, বরং সব জায়গায় আছে। আইনজীবী, চিকিৎসক, কূটনীতি সহ এমন সকল পেশাজীবীদের মাঝে। এই মনে করেন, কোন এক দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ হয়েছে, সে কোন দরবেশের "ফার্স্ট খাদেম" ছিল বলে।
এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? কমেন্টে জানান।

5 thoughts on “সাংবাদিকতা বনাম দল দাসত্বঃ ১৫ বছরের পরিকল্পিত ধ্বংস”

  1. ভাই বাঙালির রক্তে নেপোটিজম মিশে গেছে এটা ঠিক করা পসিবল না আপনি যতই সরকার চেঞ্জ করেন সিস্টেম চেঞ্জ করেন লাভ নাই.

    1. আন্তরিক ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য। আপনি ঠিকই বলেছেন, তবে আমাদেরকে তো পরিবর্তন করতে হবে, তাই না? নিজেদেরকে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।

  2. পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক

    উভয় কূল দেখেছি। এখন আগামী নিয়ে চিন্তিত। আগামীতে কাদের খুঁজে নেয়া হবে। কোন ঘরানার সাংবাদিক মূল্যায়িত হবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *